কলার খোসা দিয়ে রূপচর্চা করার আগে অবশ্যই জানতে হবে কলার খোসার উপকারিতা গুলো কি কি। কলার খোসা যাবতীয় উপকারিতা এবং কলার খোসা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ফেসপ্যাক দিয়ে রূপচর্চা করার কৌশল জানার জন্য আমাদের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়তে হবে।
কলার বিদ্যমান রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি ১২, এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত কলার খোসা এর সাথে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে রূপচর্চা করলে পার্লারে যাওয়ার দরকার হবে না। কোন ধরনের ক্ষতি করার রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার না করে কিভাবে কলার খোসা দিয়ে রূপচর্চা করা যায় চলুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
কলার খোসার উপকারিতা
চুল এবং ত্বকের যত্নে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কলার খোসা। স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ফল কলা খেলেও আমরা কলার খোসা বেশিরভাগ সময়ই ফেলে দেই। আপনি যদি কলার খোসার উপকারিতা একবার জানতে পারেন তাহলে হয়তো আর কখনো কলার খোসা ফেলে দিবেন না। চলুন কলার খোসার উপকারিতা গুলো জেনে নেওয়া যাক:
ব্রণ দূর করতে কার্যকরী
কলার খোসায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় সারারাত ব্রণের উপর লাগিয়ে রাখলে এক রাতেই ব্রণ দূর হয়ে যায়। কলার খোসা হাতে সামান্য একটু চটকে নিয়ে সারারাত ব্রণের উপর লাগিয়ে রেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন। প্রণ নিরাময় হয়ে যাবে এবং সহসায় ওই স্থানে আর ব্রণ উঠবে না।
চোখের অবসাদ দূর করে
কলার খোসায় বিদ্যমান থাকে প্রচুর পরিমাণে লুইটিন নামক পদার্থ। এটি চোখের ক্লান্তি এবং অবসাদ দূর করার পাশাপাশি চোখের চুলকানি এবং চোখে ছানি করার হাত থেকে রক্ষা করে।
দাদের ঔষধ হিসেবে কাজ করে
শরীরের অতিরিক্ত চুলকানি অথবা দাদ মোকাবেলায় কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে চুলকানি নিমিষেই কমে যাবে।
দাঁত পরিষ্কার করতে কার্যকরী
দীর্ঘদিন জমে থাকা দাঁতের হলুদ রং, অথবা কালো রঙ দূর করতে কলার খোসা দিয়ে দাঁত মাজতে পারেন। এতে করে দাঁত সাদা এবং ঝকঝকে হবে। এছাড়া দাঁত এবং নারীর ব্যথা দূর করতে একটানা এক সপ্তাহ কলার খোসা দিয়ে দাঁত মাজতে পারেন।
ত্বকের শুষ্কতা দূর করে
যাদের ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে তারা নিয়মিত কলার খোসা মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন। আলতো হাতে কলার খোসা মুখে ম্যাসাজ করলে শীঘ্রই ত্বক হয়ে উঠবে কোমল এবং মসৃণ।
আঁচিল দূর করতে সাহায্য করে
আঁচিল যে কোন মানুষের জন্য খুবই বিরক্তিকর। প্রাকৃতিকভাবে আঁচিল দূর করতে চাইলে একটানা এক সপ্তাহ প্রতিদিন একবার করে কলার খোসা আঁচিলের উপর লাগিয়ে রাখতে হবে কিছুটা সময়। নিয়মিত এক সপ্তাহ এই কাজটি করতে পারলে সাত দিনের মধ্যে আঁচিল প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে পড়ে যাবে।
ব়্যাশ দূর করতে কলার খোসা
অনেক সময় টাইট পোশাক পরার ফলে, অথবা কোন কিছুতে ঘষা লাগার ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব়্যাশ হতে দেখা যায়। ব়্যাশ দূর করার জন্য ওই স্থানে প্রতিদিন একবার করে কলার খোসা ঘষলে ভালো ফল পাবেন।
চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে
বিভিন্ন গবেষণায় এই সত্যতা পাওয়া গিয়েছে যে, কলার খোসা চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কলার খোসা চটকিয়ে তার সাথে কিছুটা পরিমাণ এলোভেরা জেল মিশিয়ে চোখের নিচে লাগিয়ে রাখলে কয়েকদিনের মধ্যেই ডার্ক সার্কেল দূর হবে।
কলার ফেস প্যাক
কলার খোসায় থাকা প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের রুক্ষতা এবং শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। কলার খোসা দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের কালো দাগ এবং ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। চলুন কলার ফেসপ্যাক কিভাবে তৈরি করতে হয় সে সম্পর্কে জেনে নিই।
লেবুর রস, মধু ও কলার খোসা
একটি কলার খোসা ভালোভাবে হাতের সাহায্যে চটকে তার সাথে সামান্য পরিমাণ লেবুর রস এবং মধু একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মুখ এবং ঘাড়ে ভালোভাবে এই মিশ্রণটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। ২০ মিনিট পর পর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে দেখতে পাবেন ত্বক এবং ঘাড়ের কালো দাগ অনেকটাই দূর হয়েছে।
কলার খোসার পেস্ট ও মধু
একটি কলার খোসা ব্লেন্ডার এ ভালো করে ব্লেন্ড করে নিয়ে তার সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে আপনার মুখ্য এবং শুষ্ক ত্বকে লাগিয়ে রাখতে পারেন। ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই মিশ্রণটি ত্বকে লাগালে ব্রণের কালো দাগ এবং রোদে পোড়া দাগ দূর হবে।
কলার খোসা, বেসন এবং মধু
একটি কলার খোসা হাতের সাহায্যে ভালোভাবে চটকে নিয়ে তার মধ্যে এক চা চামচ বেসন এবং সামান্য পরিমাণ মধু কে ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ত্বক নরম এবং মসৃণ হবে।

কলার খোসা মুখে দিলে কি হয়
কলার খোসা মুখে দেওয়ার উপকারিতা অনেক। চলুন জেনে নেই কলার খোসা মুখে দিলে কি হয়?
- ত্বকের খসখসে ভাব কমে তখন নরম এবং তুলতুলে,
- কলার খোসা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত করে,
- ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে,
- ব্রণের সমস্যা পুরোপুরি দূর করে,
- ত্বকে অযাচিত আঁচিল দূর করে,
- ত্বকে কোথাও দাদ হলে তা নিমিষেই দূর করে।
চুলের যত্নে কলার খোসা
কলার খোসা দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক চুলে এপ্লাই করলে চুল হয়ে ওঠে সিল্কি এবং প্রাণবন্ত। চুলের যত্নে কলার খোসা দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক গুলো হল:
কলার খোসা এবং টক দইয়ের হেয়ার প্যাক
দুইটি কলার খোসা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিয়ে তার সাথে পরিমাণ মতো টক দই মিশিয়ে মাথায় ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। চুল ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে শ্যাম্পু করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করলে চুল পড়া অনেকাংশে রোধ হবে।
কলার খোসা এবং অ্যাভোকাডো দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক
দুইটি কলার খোসা এর সাথে একটি অ্যাভোকাডো ভালোভাবে পেস্ট করে নিয়ে চুলে ৩০ মিনিট পর্যন্ত লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করতে হবে। অ্যাভোকাডোতে বিদ্যমান ভিটামিন ই এবং বায়োটিন এবং কলার খোসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের রুক্ষতা দূর করে এবং খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।
কলার খোসা ও মধু দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক
দুইটি কলার খোসা এর সাথে ২ চা চামচ মধু মিশিয়ে শ্যাম্পু করার আগে চুলে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ভালো করে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু খুলে ফেলুন। শ্যাম্পু করার পর পরিবর্তন নিজের চোখেই দেখতে পাবেন।
শেষ কথা
প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কলার খোসা দিয়ে রূপচর্চা আসছে বেশ অনেক বছর আগে থেকেই। আপনি চাইলে নিয়মিত কলার খোসা দিয়ে রূপচর্চা করতে পারেন। এদের করে ত্বকে তেমন কোন ক্ষতির আশঙ্কা নাই। প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক থাকবে সুন্দর এবং কোমল।
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি
১) কলার খোসা মুখে কতক্ষণ রাখা যায়?
উঃ কলার খোসা মুখে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখা যায়।
২) কলার খোসা দিয়ে কি মুখে ঘষা যায়?
উঃ নিয়মিত একটি কলার খোসা ১০ মিনিট ধরে মুখে ঘষা যায়। তবে অধিক সময় ঘষা থেকে বিরত থাকুন।
৩) কলা মুখে লাগানো যাবে কি?
উঃ কলার খোসায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। যা ত্বক উজ্জ্বল করতে খুবই কার্যকরী। তাই নিয়মিত মুখে কলার খোসা ব্যবহার করা যাবে।
1 thought on “কলার খোসা দিয়ে রূপচর্চা”